সাংবাদিক সোহাগকে ফাঁসাতে স্ট্যাম্পে দু’আইনজীবীর ভূয়া সীল-স্বাক্ষর! প্রতারক মনি চক্রের বিরুদ্ধে দু’জিডি

protarok-moni-pic-rab.jpg

নিজস্ব সংবাদদাতা: খুলনার সাংবাদিক সময়ের খবরের নিজস্ব প্রতিবেদক সোহাগ দেওয়ানকে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ফাঁসানোর চেষ্টাকারী চক্রের বিরুদ্ধে দুইজন আইনজীবী পৃথকভাবে দু’টি জিডি করেছেন। ওই স্ট্যাম্পে তৈরি অঙ্গিকারনামায় করা ওই দু’জন আইনজীবীর নামের সীল ও স্বাক্ষর জাল বলে তারা অভিযোগ করেন। জালিয়াতি চক্রের হোতা ফরিদা ইয়াসমিন মনি (৪২) গ্রেফতারের পর ওই স্ট্যাম্পের জাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। ঘটনাটি তাদের নজরে আসার পর তারা এ জিডি করেছেন (যার নং-১৫০৬ ও ১৫০৭)। জিডি দায়ের করা ওই দু’জন আইনজীবী হলেন, নোটারী পাবলিক ও এপিপি মোঃ আব্দুল মান্নান এবং এড. মোঃ আতাহার হোসেন জোয়ারদার। তারা জিডির এ অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রতারক মনি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধিন করিম নগর মসজিদ এলাকার মৃত আব্দুল ওহাব খাঁনের মেয়ে। সে বসুপাড়া কবরখানা এলাকার টাওয়ার ওয়ালা গলির শহিদুল ইসলামের বাড়ির ৫তলায় ভাড়া থাকেন। ২৪ নভেম্বর রাতে ওই বাড়ি থেকে প্রতারক চক্রের হোতা ফরিদা ইয়াসমিন মনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬ সদস্যরা। ২৫নভেম্বর সদর থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহীদুল ইসলাম আসামি মনিকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এরপর ২৮নভেম্বর আসামি মনি’র আইনজীবীর করা জামিন আদেন শুনানী শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ড.আতিকুস সামাদ জামিন না-মঞ্জুর করেন।
এছাড়াও প্রতারক ফরিদা ইয়াসমিন মনি খুলনার দেবেনবাবু রোড এলাকা, ঢাকার রমনা থানাধিন মধুবাগ গলির বাড়ী নং ৪৫৯ (স্টার লজ), ঢাকার মুগদা থানার সবুজবাগ দক্ষিণ মান্ডা, চাঁন মিয়া গলির কাওসার আহম্মেদের ভাড়া বাসাসহ আরও একাধিক ঠিকানা ব্যবহার করেন। মামলার এজাহারভুক্ত বাকী আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪জন পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই অলিয়ার রহমান ।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে খুলনার সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ানের নামে একটি অঙ্গিকার নামা তৈরি করে এ প্রতারক চক্রটি। ওই অঙ্গিকারনামায় বলা হয়, ফরিদা ইয়াসমিন মনি নামের এক নারীর সন্তান উদ্ধারের কথা বলে সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ান ৩লাখ ৭৭হাজার টাকা নিয়েছেন। এ অঙ্গিকারনামাটি ব্যবহার করে ওই চক্রটি সোহাগ দেওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে।

এরপর প্রাথমিকভাবে প্রমান মেলে তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তৈরি করা অঙ্গিকারনামাটি ২০১৮ সালের ৪জানুয়ারির তারিখে দেখানো হলেও সেটি আসলে ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারের সংশ্লি¬¬ষ্ট দপ্তর থেকে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের নির্ধারিত দপ্তরে উক্ত স্ট্যাম্প তৈরির আড়াই বছর আগের তারিখ ব্যবহার করে আসামিরা সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ানকে ফাঁসানোর জন্য এই জাল জালিয়াতি করেছেন। সহকারি নিয়ন্ত্রক (স্ট্যাম্প) প্রধান কার্যালয় ও পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের ট্রেজারী শাখার লিখিত তথ্যমতে এ প্রাথমিক সত্যতা বেড়িয়ে আসে।

এঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করতে কেএমপি’র সদর থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ হাতে পেয়ে খুলনা সদর থানায় প্রতারক চক্রের প্রধান ফরিদা ইয়াসমিন মনিসহ ৫জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩/৪জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়। দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৩৮৫, ১০৯ ও ৫০৬ ধারায় গত ১৯ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ (নং-৩৪)।

এবিষয়ে এড. মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জনৈক ফরিদা ইয়াসমিন মনি’র শিশু সন্তান উদ্ধারের কথা বলে সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ান ৩লাখ ৭৭হাজার টাকা নিয়েছেন বলে একটি অঙ্গিকারনামা সম্পাদিত করা হয়েছে। ওই অঙ্গিকারনামায় নোটারী পাবলিক এডভোকেট হিসেবে আমার নাম ও সীল নকল করে জাল জালিয়াতি করা হয়েছে। এধরনের কোন অঙ্গিকারনামা আমার দপ্তর থেকে করা হয়নি এবং দপ্তরের রেজিস্টারেও কোন তথ্য নেই। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছি।

এড. মোঃ আতাহার হোসেন জোয়ারদার বলেন, ওই অঙ্গিকারনামায় সণাক্তকারী আইনজীবী হিসেবে আমার নামের সীল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অঙ্গিকারনামায় লেখা হয়েছে সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ান আমার সম্মুখে ওই অঙ্গিকারনামা দিয়েছেন। আসলে সেটি মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে প্রতারকচক্র তৈরি করেছে। এবিষয়ে আমি জিডি করেছি ও তদন্তের আবেদন জানিয়েছি।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top