খুলনায় জেলা প্রশাস‌নের ডিলিং লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা:সরকারের রাজস্ব ফাঁকি

images-1.jpeg

সোহাগ দেওয়ান : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের আইন অনুযায়ী ২২ ক্যাটাগরীর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের (ব্যবসা ও বানিজ্য) শাখা কর্তৃক ডিলিং লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। তবে গত প্রায় ৩০বছর ধরে খুলনা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১২টি ক্যাটাগরীর কোন ব্যবসায়ী এ লাইসেন্স গ্রহন করেননি! দফায় দফায় ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোকে চিঠি দিয়েও কোন সুফল পায়নি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
বছরের একটি সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে ডিলিং লাইসেন্সহীন ওই সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করতে দেখা যায়। খুলনায় এ অনিয়মের চিত্র এভাবেই যুগের পর যুগ চলছে। এতে করে সরকার ব্যপকভাবে রাজস্ব ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের (ব্যবসা ও বানিজ্য) শাখা সুত্রে জানা গেছে, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৫৬’র এ্যাক্ট নং ১’র সেকশান ৩’র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমোডিটিস কন্ট্রোল অর্ডার ১৯৮১’র আওতায় ডিলিং লাইসেন্স গ্রহন করে ২২ ক্যাটগরীর ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা করা আইনগত নির্দেশনা রয়েছে। তবে এরমধ্যে ১২টি ক্যাটাগরীর ডিলিং লাইসেন্স কখনও কোন ব্যবসায়ী গ্রহন করেননি।
এ সংক্রান্তে গত ৮নভেম্বর জেলা প্রশাসনের (ব্যবসা ও বানিজ্য) শাখা থেকে একটি পত্র বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠণ বরাবর প্রেরন করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাহ্মিনা সুলতানা নীলা স্বাক্ষরিত ওই পত্রে বলা হয়, পত্র প্রাপ্তীর ৭দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ডিলিং লাইসেন্স গ্রহন করে উল্লেখিত পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় অভিযানে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ী হিসেবে সরকার রাজস্ব ফাঁকির অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জেলা প্রশাসন থেকে যেসকল পণ্যের ক্ষেত্রে ডিলিং লাইসেন্স গ্রহন করে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো হলো- লৌহ ও ইস্পাতজাত দ্রব্য, সিমেন্ট, কাপড়(পাইকারী), কাপড় (খুচরা), সুতা (পাইকারী), সুতা (খুচরা), দুগ্ধজাত খাদ্য, সিগারেট (পাইকারী ও পরিবেশক), স্বর্ণ জুয়েলারী, পেপার (হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর), ইলেক্ট্রিক ও রেডিও সামগ্রী (হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর), ইলেক্ট্রিক ও রেডিও সামগ্রী (রিটেইল), মেডিকেল এন্ডড সার্জিক্যাল এনড এপ্লিয়ান্স (হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর), গ্লাস এনড গ্লাসওয়ার ইনক্লুডিং সায়েন্টিফিক এন্ড ল্যাবরেটরী ইকুইপমেন্ট (হোল সেল ও
ডিস্ট্রিবিউটর), বাইসাইকেল, পার্টস, টায়ার এন্ড টিউব (হোল সেল ও
ডিস্ট্রিবিউটর), স্যানিটারী এন্ড ওয়াটার সাপ্লাই ফিটিংস (হোল সেল ও
ডিস্ট্রিবিউটর), স্যানিটারী এন্ড ওয়াটার সাপ্লাই ফিটিংস (রিটেইল), ওয়াশিং এন্ড টয়লেট সোপ (হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর), এডিবল অয়েল, মাস্টার্ড অয়েল,সোয়াবিন অয়েল, পাম অয়েল ও ভেজিটেবল ঘি (হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর), সুগার(হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর), এডিবল সল্ট, বিট সল্ট (হোল সেল ও ডিস্ট্রিবিউটর)। এরমধ্যে মাত্র ১০টি ক্যাটাগরীর লাইসেন্স সামান্য কিছু ব্যবসায়ী গ্রহন করেছেন। আর বাকী ১২টি ক্যাটাগরীর কোন লাইসেন্স কখনই ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুত্রে জানা গেছে।

এবিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রন আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত যেসকল পণ্যে ডিলিং লাইসেন্স নেয়ার বিধান রয়েছে সেগুলো গ্রহন করতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের আইন মেনে নির্ধারিত লাইসেন্স গ্রহনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার মরামর্শ দেন তিনি।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top