যাত্রীবাহী বিমান‌টি আকাশে উড়ে, ১৮ ঘণ্টার যাত্রা শেষ হয় ৩৫ বছর পর

IMG_20211219_124916.jpg

প্রতি‌দিন ডেস্ক:১৯৫৬ সালে সান্তিয়াগো এয়ারলাইন্স তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। এর ৩৫ বছর পর ব্রাজিলের পোর্ট আলেগ্রি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশে একটি অননুমোদিত বিমানকে চিহ্নিত করে। তারা বিমানের পাইলটের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একটু পরেই সবাইকে চমকে দিয়ে বিমানটি অবতরণ করে।
প্রকৃতিতে অলৌকিক ঘটনা ঘটে থাকে হরহামেশাই। রুবিক্স কিউবের জটিল ধাঁধা অনেকেই মিলিয়ে ফেলতে পারলেও কিছু রহস্য যেন কিছুতেই জট খোলেনা। এমনই এক রহস্যময় ঘটনার অবতারনা করেছিল সাপ্তাহিক ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ’।

ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের। পশ্চিম জার্মানির আখেন শহর থেকে ব্রাজিলের পোর্ট-আলেগ্রিতে সান্টিয়াগো এয়ারলাইনের ফ্লাইট-৫১৩ বিমানটি যাত্রা শুরু করে। ১৮ ঘণ্টার এই যাত্রাপথ শেষ হয় ৩৫ বছর পরে!

ট্যাবলয়েড পত্রিকাটি ১৯৮৯ সালে তাদের পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে ঘটনাটি ছাপায়। তাদের মতে, ৩৫ বছর ধরে বিমানটি ভেতরে থাকা যাত্রীদের নিয়েই আকাশে উড়ছিল। মুহূর্তেই শোরগোল পড়ে যায় গোটা সংবাদ দুনিয়ায়।

বিমানটি ব্রাজিলে যাওয়ার জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে ঊড়ে যাচ্ছিল। এসময় কন্ট্রোল রুমের সাথে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ ধরেই নেয় বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় এমনটি হতে পারে। বিমান কর্তৃপক্ষ টানা দুই বছর ডুবুরি দিয়ে খোঁজার পরেও বিমান অথবা যাত্রীদের কোনো ধ্বংসাবশেষ পায়নি ।

১৯৫৬ সালে সান্তিয়াগো এয়ারলাইন্সও তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। কয়েক দশক কেটে গিয়েছে। ৩৫ বছর পরে ১৯৮৯ সালের ১২ অক্টোবর, ব্রাজিলের পোর্ট আলেগ্রি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশে একটি অননুমোদিত বিমানকে চিহ্নিত করে। তারা বিমানের পাইলটের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একটু পরেই সবাইকে চমকে দিয়ে বিমানটি অবতরণ করে।

কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে বিমানে প্রবেশ করার পরে তাদের চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। গা হিম করা এক দৃশ্য অবলোকন করেন সবাই। বিমানটিতে ক্যাপ্টেনসহ ৯২ জন যাত্রীর কঙ্কাল অক্ষত অবস্থায়ই ছিল। ককপিটে ক্যাপ্টেন মিগুয়েল ভিক্টর কেরী যেন বিমানের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছিলেন তখনও। এ যেন সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়।

মানুষের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, এত বছর তাহলে বিমানটি কোথায় ছিল? বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে গেলেও বিমানটি কীভাবে আকাশে উড়তে পারে? এত বছরেও কি বিমানটি কোথাও অবতরণ করেনি? আবার, ৩৫ বছর পরেও বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার কীভাবে অক্ষত থাকতে পারে যেখানে পাইলটসহ সকলেই কঙ্কল হয়ে গেছেন!

ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। আমরা জানি, ট্যাবলয়েড পত্রিকার কাজই হলো বাড়তি কাটতি পাবার জন্য মুখরোচক সংবাদ ছাপানো। ট্যাবলয়েড পত্রিকাটি মিথ্যা ও চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের জন্য কুখ্যাত। এই সংবাদ প্রকাশের আগেও তারা ‘প্যান আম ফ্লাইট-৯১৪’ নামে একটি সংবাদ ছাপিয়েছিলো, যেটি উড্ডয়নের ৩৭ বছর পরে মাটি স্পর্শ করেছিল বলে প্রচার করা হয়। সুতরাং, ‘উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজের’ এই সংবাদকে কল্পনাপ্রসূত গল্প বলে ধরে নেওয়া মোটেই অস্বাভাবিক কিছু হবে না।

এছাড়া, টিভি সিরিয়াল ‘দ্যা টোয়াইলাইট জোন’ এর ১৯৬১ সালে প্রচারিত হওয়া ‘দ্যা ওডিসি অফ ফ্লাইট-৩৩’ পর্বটি কেউ দেখে থাকলে বিমানের এই প্রত্যাবর্তনের সংবাদকে তার কাছে নিছক গল্পই মনে হবে। ১৯৫৪ সালের বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোনো অফিশিয়াল রেকর্ড দিয়েও প্রমাণ করা যায় না।

ইন্টারনেটে খুঁজলে এমন অনেক ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায় যেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রই নেই। তবে, বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস পুরোটাই পাঠক বা দর্শকের ওপর। তারা চাইলেই পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য এসব সংবাদে বুঁদ হতে পারেন অথবা এড়িয়ে গিয়ে দৈনন্দিন সংবাদেই মনোযোগ দিতে পারেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top
error: Content is protected !!