ঝিনাইদহের বন্দোবস্ত নেওয়া জমি ব্যক্তি নামে রেকর্ড

prothomalo-bangla_2022-02_33aa2932-d958-417c-ae81-61ff4ab43339_JHENAIDAH_DH0574_20220201_JHENIDAH_BAOR_PHOTO_01_02_2022_3_-1.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট:  ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে ভাবদিয়া বাঁওড়টি হারিয়ে যেতে বসেছে। সেখানকার বন্দোবস্ত দেওয়া প্রায় ২৫০ বিঘা জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। দখলদারেরা ওইসব জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। সেখানে বড় বড় পুকুর কেটে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাঁওড় থেকে পানি নামছে না। খেতের ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গাড়াপোতা ও ভাবদিয়া গ্রামের মধ্যে বাঁওড়টির অবস্থান। এসএ রেকর্ডে বাঁওড়ের তিনটি দাগে রয়েছে ২৫২ একর ৭ শতক সরকারি জমি। আগে ভাবদিয়া বাঁওড় দিয়ে পার্শ্ববর্তী ৩২৬টি মৌজার মাঠের পানি বড়বিল হয়ে কোদলা নদীতে নেমে যেত। বর্তমানে বাঁওড়ে অর্ধশত বড় বড় পুকুর কাটা হয়েছে। এ কারণে এখন আর পানি নামতে পারছে না।

ভুক্তভোগী লোকজনের অভিযোগ, বাঁওড়ের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে জোর চেষ্টা নেই। দখলদারি বজায় রাখতে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই বাঁওড় নিয়ে ঝামেলা আছে। ইতিপূর্বে ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ায় এই জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস বলেন, ভাবদিয়া বাঁওড়ে সরকারি জমি এসএ ও সিএস রেকর্ডে সরকারের ১ নম্বর খতিয়ানে ছিল। আরএস রেকর্ডের ৭১ জনের নামে রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা করা হয়েছে। বর্তমানেও ৭১টি মামলা চলছে। ব্যক্তি নামে রেকর্ড হওয়া জমির ছাপা পরচা এখনো তাঁরা পাননি। ওই নতুন নথি হাতে পেলে বুঝতে পারবেন কতটুকু সরকারি জমি আছে।

নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, আগের সব বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে। বাঁওড়ের সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় যাওয়ার সুযোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বলেন, বড় বড় পুকুর কেটে দুই গ্রামের কিছু মানুষ বাঁওড়ের জমি দখল করেছে। প্রায় ২৫ বছর আগে এসব পুকুর কাটা হয়। গোটা বাঁওড়ের জমি দখলদারদের কবলে চলে গেছে। দখলদারেরা আরএস রেকর্ডের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিজেদের নামে রেকর্ড নেন। এখন তাঁরা জমির মালিক বলে প্রচার চালাচ্ছেন।

আবদুস সাত্তার আরও বলেন, তাঁরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু কাজ হয়নি। বাঁওড়টি বাঁচিয়ে রাখলে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না।

বাঁওড়ের জমির মালিক বলে দাবি করেন আবদুল হক নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া জমি তাঁরা কেনেন। আরএস রেকর্ডে সেই জমি তাঁদের নামে রেকর্ড হয়েছে। সরকার উচ্ছেদ করলে তিনি জমি ছেড়ে দেবেন।

এ বিষয়ে মহেশপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিচুল হক বলেন, তাঁরা ভাবদিয়া বাঁওড়ের জমি ফেরত পেতে কাজ করে যাচ্ছেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top