বার্গার-পিৎজা খেয়ে রুয়েট শিক্ষার্থীসহ ৫০ শিশু হাসপাতালে

ruet-BARGER.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:নওগাঁ শহরের আরামবাগ কনফেকশনারি নামে একটি বেকারির উৎপাদিত বার্গার ও পিৎজা খেয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাবাবি জান্নাতসহ অন্তত ৫০ শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. আনছার আলী।

জানা যায়, গত সোমবার ঈদের আগের দিন সন্ধ্যা ও মধ্যরাতের দিকে অসুস্থদের সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক শিশুর অভিভাবক জানান, শহরের বাটার মোড়ে অবস্থিত আরামবাগ কনফেকশনারি নামে বেকারি থেকে সোমবার পিৎজা ও বার্গার কিনে খাওয়ার পর পরই তাদের পেটে ব্যথা ও বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এ অবস্থায় তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একই ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাবাবি জান্নাত বলেন, ‘আমার বাসা শহরেই। ঈদের আগের দিন রাত ১১টার দিকে দুটি বার্গার কিনে বাসায় এনে একটু গরম করে আমি ও আমার ছোট ভাই খাই। এর এক ঘণ্টা পরই বমি হতে শুরু করে। এরপর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন বাবা। এখন পেট ব্যথা কমলেও পাতলা পায়খানা হচ্ছে।’

শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় আরামবাগ কনফেকশনারি থেকে দুটি বার্গার ও দুটি পিৎজা কিনে বাসায় গিয়ে আমার ১০ বছরের ছেলে শাফায়াত ও ১৪ বছরের ছেলে শাদাতকে খাওয়াই। তার কিছুক্ষণ পর বমি ও পেট ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করি। ওই দোকানের খাবার খেয়েই আমার দুই সন্তান অসুস্থ হয়েছে।’

এ সময় অভিযুক্ত দোকানটির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান আব্দুল মান্নান।
সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামের মাহবুবু আলম বলেন, ‘আমি দুটি বার্গার কিনে আমার ছয় বছরের ছেলে সানিমকে খাওয়ালে তার পেট ব্যথা ও বেশ কয়েকবার বমি হয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখনও সে চিকিৎসাধীন। ডাক্তার বলেছেন, তার ফুড পয়জনিং হয়েছে।’
হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আনছার আলী জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকিদের সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে। বর্তমানে ৪৮ জনের মতো হাসপাতালে ভর্তি আছে।

এ বিষয়ে আরামবাগ কনফেকশনারির মালিক কাজী খালেক বলেন, ‘আমরা সাত-আট বছর ধরে ব্যবসা করছি। এর আগে কখনও আমাদের উৎপাদিত খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়নি। আমরা চেষ্টা করি, মানসম্মত খাবার তৈরি করতে। সেই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি করি। হঠাৎ কেন এত মানুষ অসুস্থ হলো সেটা আমিও বুঝতে পারছি না।’

কাজী খালেক জানান, যারা অসুস্থ হয়েছে তাদের পরিবার ও অসুস্থদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি আমার দোকানের খাবার খেয়েই অসুস্থ হয়, তবে আমার পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমি করব।’

বিষয়টি নিয়ে সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। প্রায় ৫০ জনের মতো ভর্তি আছে। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছেন, বার্গার ও পিৎজা খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যৌথভাবে।’

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আরামবাগ কনফেকশনারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঈদের আগে অধিক লাভের আশায় দ্রুত মানহীন খাদ্য তৈরি ও বিক্রি করেন অনেক ব্যবসায়ী। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।’

জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি সদরের ইউএনও মির্জা ইমাম উদ্দিনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top