হাসপাতালে দগ্ধ শতাধিক, রক্তের জন্য মাইকিং

hghgjkh.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্ত চেয়ে মাইকিং করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় মাইকিং করতে দেখা গেছে। এ সময় স্বজনদের প্ল্যাকার্ড হাতে রক্তের গ্রুপ লিখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাত আড়াইটা পর্যন্ত আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে আনতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ কর্মী রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রাজিব পালিত বলেন, দগ্ধদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। তাদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। এ জন্য রক্ত চেয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। আশপাশের সবাইকে হাসপাতালে এসে রক্ত দিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চার জন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ অবস্থায় শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, দগ্ধ অবস্থায় এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেকের রক্ত প্রয়োজন। রক্ত দিতে আগ্রহীদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ছুটিতে থাকা সব চিকিৎসক-নার্সকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আসার জন্য বলা হয়েছে। এতগুলো রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত নেই। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, স্যালাইন, পেইনকিলার নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ করছি সবাইকে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, আহতদের দেখতে এবং চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে আমি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছি। দগ্ধদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করছি। প্রয়োজনে আশপাশের হাসপাতালে দগ্ধদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এখন জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাশ বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সব ইউনিটে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নেভাতে আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকেও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপোতে আমদানি-রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনার ছিল। ডিপোর কনটেইনারে রাসায়নিক ছিল, বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আহত হয়েছেন বেশি। আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রক্ত দিতে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে

চট্টগ্রাম শহরের স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতারা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে।

সিপিজি ব্ল্যাড ব্যাংকের স্বেচ্ছাসেবী সাদ্দাম হোসেন এবং সোহেল ইব্রাহিম দুই জনই চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আছেন। যেকোনও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন তাদের সঙ্গে। যাদের রক্ত দেওয়ার সময় হয়েছে, তারা উনাদের নাম্বারে যোগাযোগ করবেন দয়া করে।

০১৮১৫৯৭৯৮৯৭ (সাদ্দাম)
০১৮২৩৯৩০০৪৪(সোহেল)
রক্তের প্রয়োজনে ফোন দিতে পারেন
০১৮৪৬৮৮৪৭০১ (কাওছার)

চট্টগ্রামের সব চিকিৎসকদের চমেক হাসপাতালে এসে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!