বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

fbnbnnb.jpg

নানামুখী সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রবিবার (১০ জুলাই) বঙ্গভবন থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। এর আগে, তিনি বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিগত দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এর সাথে এখন যুক্ত হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট। এসব যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ। সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন প্যাকেজ প্রণোদনা প্রদানসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষি ও শিল্পসহ উৎপাদনশীল প্রতিটি খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা মোকাবিলায় বন্যাদুর্গত, অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবেও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

কেউ যাতে ঈদের আনন্দ হতে বঞ্চিত না হয় সেজন্য দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপ্রধান।
আনন্দের ঈদ গত দুই বছর ছিল বিধি-নিষেধের বেড়াজালে বন্দি। করোনাভাইরাসে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকায় বিভিন্ন বিধি-নিষেধ দিয়েছে সরকার।

এমনিতে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির ঈদ উদযাপন শুরু হয়। নামাজ শেষে বঙ্গভবনে ফিরে পরিবারের সদস্য এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি।

তবে গত দুই বছরের মতো এবার ঈদেও জাতীয় ঈদগাহে যাননি রাষ্ট্রপতি। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের সদস্য এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েন তিনি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, “এবারের ঈদের আগেই দেশবাসীর কাছে মহাখুশির উপলক্ষ হয়ে এসেছে গৌরবের নিদর্শন পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার তিন কোটি মানুষের বহুমুখী যোগাযোগের অপার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছর সেতুতে রেল সংযোগ স্থাপিত হলে দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। পদ্মা সেতুর ফলে দেশের অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ সৃষ্টি হলো তা সমগ্র দেশবাসীর জন্যই বিশেষ আনন্দের বিষয়।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “সকল সংকট মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ- এ প্রত্যাশা সবার। কিন্তু এর জন্য দরকার সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে; সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আশা করি, আপনারা সকলেই সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করবেন এবং যথাসময়ে কুরবানির বর্জ্য অপসারণে সচেষ্ট থাকবেন। পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!