খুলনায় দুই বোনকে গণধর্ষনের প্রধান দুই আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

IMG_20220516_202758.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার বটিয়াঘাটায় বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি এলাকায় ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে খালাতো দুই বোনকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৬ দুইজন ও থানা পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেন।

র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মাদ মোস্তাক আহমেদ গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেস ফ্রিফিংয়ে জানান, শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনার পর থেকে র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানী ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বটিয়াঘাটার ফুলবাড়ি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ গণধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার প্রধান দুই আসামি হলো- বটিয়াঘাটা উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার মৃত মোহাম্মাদ শেখের ছেলে মুজাহিদ শেখ (২৪) ও মোঃ আজনবী মোড়লের ছেলে মোঃ আজিজুল মোড়ল ওরফে মিশরিয়া (২৫)।

বটিয়াঘাটা থানার তদন্ত পরিদর্শক জাহিদুর রহমান বলেন, ‘সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ এনে এক ভুক্তভোগীর মা তিন জনের নামে মামলা করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাঈম নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

স্কুলছাত্রীর মা জানান, ধর্ষণের ঘটনা শনিবার মধ্যরাতের। সে সময় ঘরে থাকা ২২ মাসের শিশুর গলায় ছুরি ধরে এ ধর্ষনের ঘটনা ঘটিয়েছে। রবিবার রাতে মেয়ে দুটি ও শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশও যায় সে সময়। শনিবার বিকেলে আমি বোনের বাড়ি ডুমুরিয়ায় গিয়েছিলাম। আমার স্বামী বাগেরহাটে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এ সময়ে বাড়িতে ওরা দুই বোন ছিল। মধ্যরাতে ৭ জন আমাদের বাড়িতে যায়। তাদের কয়েকজন বাইরে পাহারায় থাকে আর কয়েকজন ঘরে ঢুকে দুই মেয়েকে হাত ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। ভোররাতে মেয়ে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। আমরা গিয়ে তাদের মেডিক্যালে নিয়ে আসি। ঘটনার সময় বড় মেয়ের সন্তানের গলায় ছুরি ধরা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগ তোলা দুজন খালাতো বোন। এদের একজনের বয়স ১৩, আরেকজনের ২৪। বড় বোনের সম্প্রতি বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে। ২২ মাসের সন্তান নিয়ে তিনি খালার বাড়ি এসেছিলেন। ছোট মেয়েটি মাদ্রাসা ছাত্রী। ধর্ষণের শিকার দুই জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!