ইউক্রেনে এবার অত্যাধুনিক ট্যাংক পাঠালো রাশিয়া

ddgfd.jpg

বিদেশ ডেস্ক:ইউক্রেনে মোতায়েনকৃত রুশ সেনাদের কাছে রাশিয়া দেশটির অত্যাধুনিক টি-৯০এম ঘরানার ট্যাংক ‘প্ররিভ’ পাঠিয়েছে। রুশ দৈনিক পত্রিকা ইজভেস্তিয়া’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ট্রেনে এসব ট্যাংক পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এ খবর জানিয়েছে।

ইজভেস্তিয়ার উল্লেখ করেছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধের ট্যাংক উৎপাদনকারী রুশ কোম্পানি উরালভেগোনজাভোদ টি-৯০এম প্রোরিভ ট্যাংকের একটি চালান রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দিয়েছে।
এই প্রতিবেদনটির খবর প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জনপ্রিয় খবরের তালিকায় এটি ছিল।
ট্যাংকগুলো হস্তান্তরের সময় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ট্যাংকগুলোকে আশীর্বাদ জানান দিমিত্রি ডনস্কয়ের রেক্টর জন ব্রাগিন। এই অনুষ্ঠানকে অনাড়ম্বর হিসেবে উল্লেখ করেছে রিয়া নভোস্তি।

বার্তা সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, উরালভেগোনজাভোদ কারখানার শ্রমিকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ও অক্ষর ট্যাংকগুলোর গায়ে সাঁটানো হয়েছে। যা সেনাদের প্রতি রুশ নাগরিকদের সমর্থন, শ্রদ্ধা ও তাদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সমন্বিত শিল্পগোষ্ঠী রোজটেক-এর অংশ উরালভেগোনজাভোদ। এটি স্ভেরদেলোভস্ক ওব্লাস্টের নিজনি তাজিলে অবস্থিত।

ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে যেসব টি-৯০ ট্যাংক পাঠানো হয়েছে সেগুলো উরাল ডিজাইন ব্যুরো অব ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা উদ্ভাবিত। এগুলোকে টি-৯০ ট্যাংক পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে অত্যাধুনিক বলে বিবেচনা করা হয়।

রিয়া নভোস্তি লিখেছে, এগুলো আধুনিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্য। টি-৯০ সরাসরি অন্য ট্যাংকের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারে।

ইজভেস্তিয়া প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, এগুলোতে একই ধরনের টারেট রয়েছে, যাতে আছে গোলাবারুদের বাক্স। পশ্চিমা প্রতিরক্ষা শিল্প বিশেষজ্ঞরা এটি রুশ ট্যাংকের নকশার ত্রুটি হিসেবে বলে আসছিলেন। তাদের দাবি, এই ত্রুটির কারণে ইউক্রেনে বেশিরভাগ রুশ ট্যাংক বিধ্বস্ত হয়েছে।

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই রুশ ট্যাংকের এই ত্রুটির কথা জানেন। এই ত্রুটির ফলে ট্যাংকগুলোতে আগুন লেগে যাওয়ার এবং টারেটে মজুত করা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ইজভেস্তিয়ার তথ্য অনুসারে, টি-৯০ ট্যাংকে ১২৫ এমএম কামান রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে গাইডেড মিসাইল, যা আকাশ থেকে ছোড়াসহ সাঁজোয়া লক্ষ্যবস্তুতে ৫ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে রুশ সেনাদের কাছে এসব ট্যাংকের চালান পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!