খু‌নের পর যেভাবে ধরা পড়লো নায়িকা শিমুর স্বামী

25-18.jpg

প্রতি‌দিন ডেস্ক: দাম্পত্য কলহের জেরে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করেছে তার স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীমের বাড়ি ফরিদপুরের কমলপুর গ্রামে। তাদের ১৫ বছরের এক মেয়ে ও ৭ বছরের এক ছেলে আছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ই একটি প্লাস্টিকের সুতোর সূত্র ধরে উদঘাটন হয় হত্যার মূল রহস্য।

লাশ গুম করতে দুটো বস্তা যে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতোই হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়।

অভিনেত্রী শিমু সপরিবারে কলাবাগান থানার গ্রীন রোড এলাকায় থাকতেন। গত ১৭ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই দিনই কলাবাগান মডেল থানায় স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিমুর স্বামী নোবেল।

মঙ্গলবার সন্ধায় পুলিশের একটি সূত্র জানায়, লাশ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি অভিনেত্রী শিমুর বাসায় গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। এ সময়ই একটি প্লাস্টিকের সুতোর সূত্র ধরে উদঘাটন হয় হত্যার মূল রহস্য। লাশ গুম করতে দুটো বস্তা যে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতোই হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। গাড়িটি ধোয়া ছিল এবং দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলকে আটক করে পুলিশ।

সূত্র আরও জানায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে শিমুর স্বামী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি শিমুকে হত্যা করেছেন। ১৬ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন। পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন। পরবর্তীতে বাড়ির দারোয়ানকে নাস্তা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর লাশটি ফেলে চলে যান।

এর আগে গতকাল সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিমুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে হুন্দাইয়ের ছাই রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী শিমু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে তার স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায়। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল ও ফরহাদকে আজ মঙ্গলবার আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের দুই জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top
error: Content is protected !!