খুলনায় শিক্ষককে পেটানো সেই ইউ‌পি চেয়ারম‌্যান র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

IMG_20220722_100947.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক//
খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা উত্তরচক আমিনীয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমানকে পেটানোর অভিযোগ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌‌্যাব। বৃহস্প‌তিবার রাতে অ‌ভিযান চা‌লিয়ে র‌্যাব ৬ ‘র এক‌টি অ‌ভিযা‌নিক দল তাকে গ্রেফতার করেন। অাজ শুক্রবার তাকে থানায় হস্তান্তরের প‌ক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
এঘটনায় ওই শিক্ষকের স্ত্রী বা‌দি হয়ে কয়রা থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে কয়রা থানার ওসি এবি এমএস দোহা নি‌শ্চিত করেছেন।

মামলার সং‌ক্ষিপ্ত বিবরনীতে জানা গেছে, অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান জানান ১৮ জুলাই মাদ্রাসায় কাজ করছিলেন তিনি। এসময় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনুসুর রহমান, নিয়াজ হোসেনসহ স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন লোক তাকে জোর করে ধরে রুম থেকে বের করে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে এবং বেধড়ক মারপিট করা হয়। এতে তার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায়। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

জ্ঞান ফিরলে চেয়ারম্যান আমাকে মাদ্রাসা থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। পরে কয়রা থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আমাকে উদ্ধার করে। প্রথমে আমাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।
‌শিক্ষক মাসুদুর রহমান জানান, মাদ্রাসাটি ঢাকার ইসলামিক অ্যারাবিক ইউনিভার্সিটির আওতাভুক্ত। তিন মাস আগে কলেজে সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন জনের নাম চাওয়া হয়েছিল। তখন চেয়ারম্যান বাহারুল তাকে জোর করেছিল তার নাম দেয়ার জন্য। বাধ্য হয়ে বাহারুলসহ তিন জনের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। তবে ইউনিভার্সিটি থেকে সেটা প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে কমিটি দিতে বলা হয়। পরে আমি মহারাজপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল মাহমুদসহ তিন জনের নাম প্রস্তাব করে আরেকটি কমিটি জমা দিই। তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহারাজপুরের চেয়ারম্যানকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

মাসুদুর রহমান বলেন, এরপর থেকেই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। কয়েকদিন আগে আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। বলেছেন, সভাপতি হতে পারিনি, তখন আমার কিছু টাকা খরচ হয়েছিল। সেইজন্য এক লাখ টাকা দিতে হবে। প্রাণের ভয়ে টাকা দিয়েছি। তারপরও সে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে। বলেছে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে। না হলে এলাকায় ফিরতে পারব না।

জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, অধ্যক্ষ আমাকে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তখন পড়ে দেখি সেটা ক্রিমিনাল অকারেন্স। তাই তাকে মামলা করতে বলা হয়েছে। মামলা না নিলে তাকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে কয়রা থানাকে মামলা নিতে বলা হয়েছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!