পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত ফেরত যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

ppppp.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত ফেরত যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঈদের ছুটিতে এবং চিকিৎসার জন্য অনেকে গিয়েছিলেন ভারতে। ভ্রমণ ও চিকিৎসা শেষে তারা এখন দেশে ফিরছেন। তবে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে কাজের ধীরগতির কারণে পাসপোর্ট যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে একই উদ্দেশ্যে প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ যাচ্ছেন ভারতে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে কাজের ধীরগতির কারণে পাসপোর্ট যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ইমিগ্রেশন অভ্যন্তরে ডেস্কের সংখ্যা বেশি থাকলেও মাত্র ৩-৪ জন অফিসার কাজ করেন। যাত্রীরা ভোর ৬টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে বিকালে এমনকি রাত ১১টায় দেশে ফিরতে পারছেন। আবার গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রী যাতায়াত করায় বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

এছাড়া পেট্রাপোল বন্দরে কুলি ও দালালদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের থেকে টাকা নিয়ে সিরিয়াল ভেঙে ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এ বন্দরে বিএসএফের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা যাত্রী কুমিল্লার জীবন কুমার বলেন, আমরা শুক্রবার সকাল ৯টায় পেট্রাপোলে এসে পৌঁছাই। সেখানে সোহাগ পরিবহনে করে আসি। তারাও আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেবাটা দেয়নি। নোম্যান্সল্যান্ডে আমাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সোহাগ পরিবহনের ওপাশের দায়িত্বে থাকা স্টাফ এবং কুলিরা আগে আগে ইমিগ্রেশন পার করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের থেকে ১০০০ টাকা করে নিয়েছেন। তবুও তারা কিছুই করেননি, শুধুমাত্র আমাদের মালামালটা বহন করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএসএফ সদস্যদের দুর্ব্যাবহারের শিকার হতে হয়েছে।

জানা যায়, দেশের অন্য শুল্ক স্টেশন দিয়ে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া বেড়েছে।

ভারত থেকে ফিরে আসা জবেদা বেগম, নাঈমুল ও আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে ভারত ভ্রমণে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এই মাত্রার দুর্ভোগ আগে কখনও পোহাইনি।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা জানান, ভারতের পেট্রাপোলে ইমিগ্রেশনে ধীরগতি-নেট সমস্যাসহ দালাল চক্রের কারণে যাত্রী ভোগান্তি বাড়ছে। প্রশাসনের মারমুখী আচরণের অভিযোগ করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি নিয়ে ভ্রমণে এসেছি। কেন আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হবে।

তারা আরও জানিয়েছেন, সীমান্তে বিভিন্ন বাহিনী দায়িত্ব পালন করলেও যাত্রীদের লাইনে কোনও শৃঙ্খলা ছিল না। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে খেয়ে না খেয়ে। এটা ছিল এক অমানবিক পরিস্থিতি। বাংলাদেশে প্রবেশের পর গন্তব্যে যেতে ছিল টিকিট সংকট। টিকিট কোনও রকমে মিললেও বেশি দাম দিয়ে তা কাটতে হয়েছে। নন এসি বাসে ৫০০ টাকার টিকিট কিনতে হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। এসি বাসের ১০০০- ১২০০-এর টিকিট কিনতে হয়েছে ১৫০০-২০০০ টাকায়।

ভারতফেরত অরবিন্দ বলেন, ভোর ৫টার সময় ভারতের অফিসের লাইনে দাঁড়িয়ে বিকাল ৪টায় বাংলাদেশে এসেছি।

অপর যাত্রী কল্পনা রানী জানান, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পরে ফিরে গেছি। আজ ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি।

ভারত ফেরত যাত্রী নাহিদা বেগম বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। শত কষ্ট আর দুর্ভোগ পোহানোর পর দেশে এসে দেখছি বাসের টিকিট হয়ে গেছে সোনার হরিণ। টিকিট মিললেও ভাড়া এখন অনেক বেশি।

বেনাপোল বন্দর উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, বাংলাদেশ অংশে যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রাতদিন যাত্রীসেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় কতৃ‌র্পক্ষের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ওসি ইমিগ্রেশন আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেনাপোল দিয়ে যাত্রীসেবায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। গভীর রাত পর্যন্তও খোলা রাখা হয়েছে ডেস্ক, বাড়ানো হয়েছে সেবা।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!