রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

hghhg.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বে জ্বালানি, খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বিরোধী দল সমালোচনা করলেও হতাশ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ।
জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে শনিবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক পদক প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকা রাশিয়ার ওপর ডলার আদান প্রদানে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক উন্নত দেশও ভুক্তভোগী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই একটা সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সার কেনা, খাদ্য কেনা অথবা জ্বালানি তেল কেনা, সবক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু আমরা না, সারা বিশ্বই একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। এটা হলো বাস্তবতা।’

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার শিক্ষা সবাই ভোগ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশে যেমন মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ঠিক তেমনিভাবে উন্নত দেশগুলোতে অনেক অনেক মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।’

শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নত ইউরোপ, আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি উন্নত দেশগুলোর কথা বেশি বলবো। কারণ আমরাতো অনেক দূরে রয়ে গেছি কিন্তু তাদের অবস্থাই হচ্ছে এই ধরনের করুণ। সেখানে আমরা কোথায়! তারপরও বলবো প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সবাই স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করছে বলেই আমরা এখনো ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। তবুও ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, মিতব্যয়ী হতে হবে। অহেতুক অপচয় যাতে না হয়, সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি এ ক্ষেত্রে পত্র-পত্রিকা নানা কথা লিখবে। টকশোতে অনেক কথা বলবে। বিরোধী দলও কথা বলবে। এটা বলাই তাদের কর্তব্য। তারা বলে যাক। আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। যে আমরা সঠিক পথে আছি কী না, সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করছি কী না, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি কী না, দেশের গ্রামের সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পাচ্ছে কী না? আমরা যদি সেই ভাবে চিন্তা করি, তাহলে কে কী বলছে, সেই দিকে খুব বেশি একটা নজর দিতে হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কে কী বললো সেটা শুনে হয়তো দেখতে পারি কোথাও আমাদের কোন ঘাটতি আছে কী না। ওইটুকু আমরা নেব। কিন্তু ওই কথায় যেন বিভ্রান্ত না হন, কেউ যেন হতাশা না হন। এইটুকু বলবো। কেউ হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পড়েন সেই দিকে সচেতন হতে হবে। হতাশা হওয়ার মতো কিছু নেই। যখন যে অবস্থা হবে, সেই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আমাদের চলতে হবে। তারপরও আমাদের নিজেদের যা কিছু আছে, তা নিয়ে চলবো।’
করোনাভাইরাসের মহামারির সময়েও দেশের অর্থনৈতিক গতি ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার সক্ষম হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক আজকে বিশ্বের কোন দেশ এককভাবে চলতে পারে না। বর্তমান বিশ্ব হচ্ছে গ্লোবাল ভিলেজ। একে অপরের ওপর আমরা অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরশীল।’
দেশের মানব সম্পদ ও মাটি কাজে লাগাতে পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান সরকার প্রধান।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণের অর্জিত অর্থ দিয়ে সকলের বেতন-ভাতা, আরাম, আয়েশ সবকিছু। তাই কাজ করতে হবে তাদের জন্য, তাদের স্বার্থে এবং কল্যাণে।’
প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাতে নির্বিঘেœ কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা সরকার করে দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ফ্ল্যাট, জমি ও গাড়ি সুবিধাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সংসারের চিন্তা অনেকটা লাঘব করে দিয়ে জনগণের চিন্তা যাতে করতে পারেন, সেই সুযোগটা যাতে সৃষ্টি হয়, সেই ব্যবস্থাও আমি নিয়েছি। বিস্তারিত এই ব্যাপারে বলতে চাই না।’
যাদেরকে দিয়ে জনগণের দায়িত্ব পালন করাব, তারা যেন মন-প্রাণ ঢেলে জনগণের সেবা করতে পারে। সেই ভাবে কাজ করেছি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেকটা কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে কর্মসম্পাদন চুক্তি করার হচ্ছে হয়েছে বলেও জানান সরকার প্রধান। তৃণমূলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি সরকারের মূল লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান, মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
৩১ কর্মকর্তা-প্রতিষ্ঠান : ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ পেয়েছেন ৩১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনের ২৭ জন কর্মকর্তা ও ৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসব পদক তুলে দেওয়া হয়।
এবার ‘সাধারণ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা’য় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তি দর্শন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের ধারণা বাস্তবে রূপায়ণ করে ‘উন্নয়ন প্রশাসনে’ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে। ভূমি তথ্য ব্যাংকের জন্য ‘সংস্কার’ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পদক পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
‘মানব উন্নয়ন’ ক্ষেত্রে দলগতভাবে পদক পেয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বাগেরহাট মোল­ারহাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ওয়াহিদ হোসেন, মোল­ারহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও মোল­ারহাটের উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ কামাল হোসেন।
‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ ক্ষেত্রে পদক পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব কাজী মোঃ আব্দুর রহমান (নেত্রকোনার সাবেক জেলা প্রশাসক), নেত্রকোনার কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক (বর্তমানে পিআরএল ভোগরত), নেত্রকোনা খালিয়াজুরির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম, খালিয়াজুরির সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) (বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে যোগ দেওয়া) নাহিদ হাসান খান ও নেত্রকোনার মদনের উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ মঞ্জুরুল হাফিজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এইচ এম আব্দুর রকিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ জাহিদ নজরুল চৌধুরী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ জাকিউল ইসলাম ‘দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা’য় পদক পেয়েছেন।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন, গোপালগঞ্জের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আজহারুল ইসলাম (মাদারীপুরের স্থানীয় সরকারের সাবেক উপ-পরিচালক), মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঝোটন চন্দ, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আব্দুল­াহ-আবু-জাহের দলগতভাবে ‘অপরাধ প্রতিরোধ’ ক্ষেত্রে পদক পেয়েছেন।
‘জনসেবায় উদ্ভাবন’ ক্ষেত্রে দলগতভাবে পদক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ঢাকার জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম ও সুরক্ষা ডেভেলপার ইউনিট।
‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ খাতে পদক পেয়েছেন কুমিল­ার ডিসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমা আশরাফী, সহকারী কমিশনার ফাহিমা বিনতে আখতার ও নাসরিন সুলতানা নিপা।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!