খুলনায় হত্যার পর লাশ তের টুকরা:রায় ১১ আগস্ট

hhddd.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক//খুলনা নগরীর ফারাজীপাড়া এলাকায় নৃশংসভাবে হাবিবুর রহমান সবুজ (২৮) হত্যা মামলার আর্গুমেন্ট (যুক্তিতর্ক) শেষ হয়েছে। আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় আগামী ১১ আগস্ট ঘোষণা করা হবে বলে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনা জন-নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো এ আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন।
তিনি জানান, আসামি পক্ষের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলীদের মধ্যে এই হত্যা মামলার আর্গুমেন্ট (যুক্তি-তর্ক) বিজ্ঞ আদালতের সামনে উপস্থাপন হয়েছে। আদালত আর্গুমেন্ট শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন। ভিকটিম হাবিবকে হত্যার পর আসামিরা তার লাশ ১৩ টুকরা করেছিলো। খুলনার বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় আসামিদের সর্ব্বোচ শাস্তির আশা করেন তিনি।

২০১৯ সালে নভেম্বরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবু বক্কর ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্তরা হলো বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার শাহ আউলিয়াবাগ বালিয়াডাঙ্গা সরদার বাড়ির মৃত-নুরুল হকের ছেলে সরদার আসাদুজ্জামান (৩৫), বটিয়াঘাটা উপজেলার হাটবাটিয়া এলাকার নিভান মহলদারের পুত্র অনুপম মহলদার (৪২), খলিল, হালিম গাজী ও মোস্তফা মামুন।

মামলা ও চার্জশিটের সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, আসামি মোস্তফার স্ত্রী সাথে হাবিবের অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। হাবিবকে হত্যার জন্য মোস্তফা কাছ থেকে প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান ৫০ হাজার টাকা নেয়। হত্যার আগে হাবিবের ডেভিট কার্ড নিয়ে ময়লাপোতা, শঙ্খ সার্কেট ও ফুলবাড়িগেটস্থ ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে ২ লাখ টাকা উঠায় আসাদ। এর আগে হাবিবের কাছ থেকে একটি বাড়ি একটি খামারের প্রজেক্ট থেকে ৫ লাখ টাকা লোনের কথা বলে দেড় লাখ টাকা নিয়েছিলো আসাদ। তাছাড়া হাবিবের মাধ্যমে সাতক্ষীরার আন্না ফিলিং স্টেশনের মালিককে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা থেকে ৫ কোটি টাকা লোন করিয়ে দেয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেয় আসাদ। মূলতঃ পরকিয়া ও টাকার লেন-দেন সংক্রান্ত বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে আসামিরা। মামলার আসামি মোস্তফা মামুন ও তার স্ত্রী ভারতে পালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০১৯ সালের ৭ মার্চ সকাল সোয়া ১০টার দিকে নগরীর শের এ বাংলা রোড ও ফারাজীপাড়া লেনের ড্রেনের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় হাবিবুরের মাথাসহ মৃতদেহের ৫টি খন্ড পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের টুকরো উদ্ধারের ঘটনাটি অল্প সময়ের মধ্যেই নগরীতে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সাতক্ষীরা সদরের ওমরাপাড়ার আব্দুল হামিদের ছেলে হাবিবুর ইট-ভাটায় ঠিকাদারী সরদার হিসেবে কাজ করতেন। গত ৮মার্চ হাবিবুরের ভগ্নিপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন (নং-১৪)। এরপর গত ১১ মার্চ র‌্যাব-৬’র সিপিসি-স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ শামীম সরকারের নেতৃত্বে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সেখান থেকে হাবিবুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সরদার আসাদুজ্জামান (৩৫) কে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যমতে বটিয়াঘাটা থেকে অনুপম মহলদার (৪২) কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মতে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ফারাজীপাড়া লেনের ৩৪, হাসনাত মঞ্জিলের নিচতলায় আসাদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৬’র সদস্যরা। এ সময় ওই কক্ষ থেকে নিহত হাবিবুরের মরদেহের বাকী অংশ, মোটরসাইকেল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!