কঠোর অবস্থানে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ

iooiiyyu.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) সকালে কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে আসলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেতু পারাপারের নিয়ম মানাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও সেতু কর্তৃপক্ষ। কেউ যাতে গাড়ি থেকে সেতুতে না নামে ও ছবি না তোলে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে কোনও যানবাহনের জট নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক সরাসরি টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে। তবে সকালে পদ্মা সেতু পার হতে না দেওয়ায় কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক টোল প্লাজায় জড়ো হয়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে আসা আসাদ মিয়া বলেন, ‌‘আমি সকাল ১০টায় আসি। সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে দিচ্ছে না। এরপর ফেরিঘাটে যাই। সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও ফেরি না পেয়ে আবারও পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় আসি। আমি ব্যবসা করি। যশোর থেকে আমার কাঁচামাল আসবে। এখন না যেতে পারলে মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে।’
আরেকজন মোটরসাইকেলচালক আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ। আমাকে বাড়ি যেতে হবে। কয়েকজনের অপরাধের কারণে লাখ লাখ মোটরসাইকেলচালককে মাশুল দিতে হবে, এটা হতে পারে না। যারা অন্যায় করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’

এদিকে পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে কৌশলে কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে সেতু পার হতে দেখা গেছে। সকালে এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন এক গণমাধ্যমকর্মী।
ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি পিকআপে সাত-আটজন যুবক কয়েকটি বাইক নিয়ে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছেন। এ সময় তাদের ভাড়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, সেতু পার করাতে প্রতিটি বাইকে গুনতে হয়েছে ৪০০ টাকা করে।
মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার ইনচার্জ ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সকালে কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক সেতু পার হওয়ার জন্য টোল প্লাজায় আসেন। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আজ থেকে সেতুতে মোটরসাইকেল পারাপার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই আমরা তাদের টোল প্লাজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছি। সকালে কিছু চাপ থাকলেও এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

পিকআপ ভ্যানে মোটরসাইকেল পারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিকআপে মোটরসাইকেল পার হওয়ার কোনও দৃশ্য আমাদের চোখে পড়েনি। দেখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লৌহজং এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, মোটরসাইকেল পার হতে দেওয়া যাচ্ছে না। শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে একটি ফেরি কুঞ্জলতা প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সেতু এলাকায় মাইকিং করছে প্রশাসন। সেতুতে কোনোরকম মোটরসাইকেল ও মাঝ সেতুতে কেউ নামলে বা ছবি তুললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল বলেন, ‘সকাল থেকেই আমাদের মোবাইল টিম কাজ করছে। কাউকে মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। কেউ আসলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি টোল দিয়ে সেতু পার হন। রবিবার ভোর ৬টা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল শুরু হয়। পরে রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!