খুলনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে স্কুল কমিটির নির্বাচনে হারের খবরে বিব্রত এমপি

sdgdshsfhs.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক //
খুলনার তেরখাদা উপজেলার শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নিকট হারের খবরে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী।
ফল ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় এই সংসদ সদস্য অবশ্য কাছে দাবি করেছেন, তিনি নির্বাচনের বিষয়ে কিছুই জানেন না।
শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা চম্পা বলেন, বিজয়ী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৬ ভোট এবং পরাজিত প্রার্থী আব্দুস সালাম মূর্শেদী পেয়েছেন ৩ ভোট।
নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে অভিভাবক, দাতা সদস্য ও শিক্ষকদের ভোটে প্রথমে ৯ জনকে সদস্য নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষক প্রতিনিধি তিনজন, দাতা সদস্য একজন এবং অভিভাবক সদস্য পাঁচজন নির্বাচিত হন।

‘গত ১৫, ১৬ ও ২০ মার্চ ছিল আমাদের সদস্য নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেয়ার সময়। এ ছাড়া ২১ মার্চ যাচাই-বাছাই ও ২২ মার্চ প্রত্যহারের শেষ দিন ছিল। আর সদস্য নির্বাচনের ভোট হয় ২৫ এপ্রিল। সেখানে ৯ জন সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্যরা স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকতে বা হতে পারবেন না বলে ২০১৬ সালে দেয়া এক রায়ে জানায় হাইকোর্ট। এরপর যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্য বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন, সেসব পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে শিক্ষাবোর্ড।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মোট ভোটার ছিলেন ৯ জন। শতভাগ ভোট পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সদস্যরা সভাপতি হিসেবে কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করতে পারেন। সেখানে শুধু সদস্যরা ভোট দিতে পারেন, সেই ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন।

‘এর মধ্যে নির্বাচিত সদস্য মোসাবিয়া খানাম, সভাপতি পদে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং সদস্য তরিকুল ইসলাম তাতে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

‘এ ছাড়া সদস্য রাসেল রানা, সভাপতি পদে শহিদুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেছিলেন ও সদস্য লাকি খানম তাতে সমর্থন জানিয়েছিলেন।’

আব্দুস সালাম মূর্শেদীর নাম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে প্রস্তাব করা হয়েছে, এ বিষয়টি তিনি নিজে জানেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। নাম প্রস্তাবকারীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আর এটা জানার বিষয়ও আমার না।’

সংসদ সদস্যদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে না থাকার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা চম্পা বলেন, ‘বিষয়টি এই রকম না। বিষয়টি হচ্ছে একজন সংসদ সদস্য দুটি বিদ্যালয়ের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে পারবেন না।’

তবে খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলছেন, ‘প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা চম্পার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল। উচ্চ আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সম্মান অনেক ওপরে। আর বিদ্যালয়ের সভাপতিকে নিয়োগ করে শিক্ষা বোর্ডেও চেয়ারম্যান। একজন সংসদ সদস্যকে আন্ডারে নেয়ার ক্ষমতা বোর্ড চেয়ারম্যানের নেই। আদালতের আদেশ সেইভাবে আছে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যারা আমার নাম প্রস্তাব করেছে, তারা এক রকম ভুল করেছে। আমি একটি স্কুল কমিটির নির্বাচনে অংশ নিতে যাব কেন?

‘এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিলে তো আমি খুলনায় থাকতাম। আমি তো এখন জাতীয় সংসদে একটি মিটিংয়ে। আপনি বলেন, আমি নির্বাচনে অংশ নিলে আমার প্রস্তুতি থাকবে না, এটা হয় নাকি?

‘হয়তো আমাকে তারা প্রার্থী বানিয়েছিলেন এই ভেবে যে আমি থাকলে অন্য কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top