গাড়িতে যেতে যেতে পদ্মা সেতুর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী

kkkp-mos.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:পদ্মা সেতু নিয়ে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল বিশ্ব ব্যাংক। ওই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যখন তদন্ত চলছিল, তখন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘গাড়িতে যেতে যেতে পদ্মা সেতুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিকালে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে পদ্মা সেতু নিয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মসিউর রহমান বলেন, ‘ওই সময়ে বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমার উত্তর ছিল— ‘প্রধানমন্ত্রী কাউকে কেবিনেটে রাখবেন কিনা, সেই পরামর্শ দেওয়া আমার দায়িত্ব ও ক্ষমতার অতিরিক্ত।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকে কয়েকদফা চিঠি লিখে আমি জানিয়েছিলাম তাদের ব্যবহারশাস্ত্র (জুরিসপ্রুডেন্স) অত্যন্ত দুর্বল। এটির ওপর ভিত্তি করে তোমরা দুর্নীতি রোধ করতে পারবে না। তোমরা মানুষকে হেয় করতে পারবে, মানুষকে দুর্নাম দিতে পারবে, কিন্তু কোনও কিছু করতে পারবে না।’

পদ্মা সেতু তৈরির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গাড়িতে যেতে যেতে পদ্মা সেতুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

৯০ এর দশকে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য জাপানকে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। ওই সময়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানের কাছে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল জাপান।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, পদ্মা সেতুতে সহায়তা করার বিষয়টি জাপানের বিবেচনাধীন ছিল। বিবেচনার শেষ পর্যায়ে তারা জানায়, কোন কোন বড় প্রকল্পকে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সেটি যেন দ্রুত জানানো হয়। আমি তখন ওই বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী তখন সংসদে যাচ্ছিলেন এবং আমাকে বললেন, ‘আমার গাড়িতে আসেন। আমরা যেতে যেতে কথা বলবো।’

মসিউর রহমান বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলাপটি এই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অনেক কাগজপত্র দেখে, অনেক মাথা ঘামিয়ে, অনেক চুলচেরা সিদ্ধান্ত এটি নয়। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন— পদ্মা সেতু হলে উনার বাড়ি যেতে কত সময় লাগবে। আমি একজন ভালো আমলার মতো হিসাব করে বললাম— চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তখন জানতে চাইলেন— রাজধানীতে বাইরে থেকে লোক না এনে যদি রাজধানীকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটি ভালো সিদ্ধান্ত।’ মানুষের কল্যাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর যে অন্তর্নিহিত ইচ্ছা, সেটির প্রতিফলন ছিল ওই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

/এসএসজেড/এপিএইচ/

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!