সাংবাদিককে মারধর: ছাত্রলীগ নেতাকে হল থেকে বহিষ্কার

sxsdswd.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিককে মারপিটে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন কাজলকে হল থেকে বের করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভর্ৎসনা করা হয়েছে রাবির মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ শামীম হোসেনকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রোববার রাতে মারধরের শিকার হন একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার রাতে টিভি রুমে অনেকেই আইপিএল খেলা দেখছিল। সেখানে কাজল ধূমপান করছিল। আমি তাকে টিভি রুমে ধূমপান করতে নিষেধ করলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাজলসহ আরও কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে। পরে বন্ধু ও সাংবাদিক সহকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে। রাতেই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়।’

এই ঘটনার পর গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। জড়িতদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন উপ-উপাচার্য ও জনসংযোগ প্রশাসকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা রাত ৩টার দিকে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। উপ-উপাচার্য সুলতানুল ইসলাম এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা হলে ফেরেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি কাজলের নম্বরে ফোন করা হলেও ধরেননি। পরিচয় জানিয়ে তাকে এসএমএস করা হলেও সাড়া দেননি।

সহকর্মীর ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা।

রাবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার সম্পাদক রিপন চন্দ্র রায় বলেন, ‘স্মারকলিপিতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং ঘটনার সময় হল প্রাধ্যক্ষ শামীম হোসেনের ব্যর্থতার জন্য তার পদত্যাগ দাবি করা হয়।

‘ঘটনার পর হল প্রাধ্যক্ষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলে যাননি। অনেকবার ফোন করার পর তার স্ত্রী ফোন ধরে বলেন, তোমাদের স্যার ঘুমাচ্ছে। এসব নিয়ে উপাচার্য স্যারের সাথে কথা হয়েছে।’

তিন দফা দাবিতে দেয়া সাংবাদিকদের স্মারকলিপি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘তিনটির মধ্যে দুটি বিষয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আর যেহেতু এখানে মারধরের ঘটনা ঘটেছে, সেহেতু একটি তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা তদন্ত রিপোর্ট শৃঙ্খলা কমিটিতে জমা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আর এই গর্হিত কাজের জন্য প্রাধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। আমরা তাকে অপসারণ না করে আরেকবার নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিয়েছি।’

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!