সূর্যের পূর্ণগ্রহণ কীভাবে হয়, গ্রহণ কত রকমের এবং বিভিন্ন গ্রহণে পার্থক্য কোথায়?

0000.jpg

প্রতি‌দিন ডেস্ক: গ্রহণ একটি বর্ণিল আর আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। সে কারণেই গ্রহণকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর আগ্রহ আর গ্রহণকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানাধরনের পর্যটন আকর্ষণ। আগামী গ্রহণটি হবে আজ শনিবার ৪ঠা ডিসেম্বর। আজ সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ – যা দেখার জন্য উদগ্রীব থাকেন বহু মানুষ। কিন্তু আজকের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পুরোপুরি দেখা যাবে কুমেরু অর্থাৎ দক্ষিণ মেরুর কোন কোন অংশ থেকে। এই গ্রহণ শুরু হবে গ্রেনিচ মান সময় সকাল পাঁচটা ২৯ মিনিটে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার কিছু কিছু এলাকাসহ আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কোন কোন দেশ থেকে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আংশিকভাবে দেখা যাবে -যদি আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন গ্রহণ লাগার প্রায় চার ঘণ্টা পর থেকে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের একেবারে দক্ষিণ মাথা থেকে এই আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনার কিছুটা প্রত্যক্ষ করা যাবে।

কিন্তু মহাজগতে যত রকমের গ্রহণ হয়, তার মধ্যে একটি হল সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গ্রহণ আছে। “সাধারণত আমরা দুই ধরনের গ্রহণের কথা জানি: চন্দ্রগ্রহণ এবং সূর্যগ্রহণ,” লিখেছেন চিলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী হুয়ান কার্লোস বিমিন তার সাম্প্রতিক বই “ইলাসট্রেটেড অ্যাস্ট্রোনমি”-তে। কিন্তু এরপরই তিনি লিখছেন: “তৃতীয় আরেক ধরনের গ্রহণ রয়েছে যেটি ঘটে অনেক দূরের দুটি তারার মধ্যে।”

সূর্যগ্রহণ

চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ পথে কখনও কখনও চাঁদ এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। তখন তারা থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। সূর্যগ্রহণ হয় তিন ধরনের। আর এই ধরনগুলো নির্ভর করে চাঁদ সূর্যকে কতটা ঢেকে ফেলছে তার ওপর।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণ

সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ঘটে যখন সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ এমন অবস্থানে আসে যখন চাঁদ সূর্যের আলোকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়। তখন কয়েক সেকেন্ডের জন্য (কখনও কখনও এমনকি কয়েক মিনিটের জন্যও) আকাশ এতই অন্ধকার হয়ে যায় যে মনে হয় সেটা রাতের আকাশ। নাসার কথায়, “মহাজাগতিক একটা সমন্বয় ঘটলেই একমাত্র সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ সম্ভব হয়”: সূর্য চাঁদের তুলনায় ৪০০ গুণ চওড়া এবং চাঁদ পৃথিবী থেকে যত দূরে, সূর্য তার চেয়ে আরও ৪০০ গুণ বেশি দূরে।

“এই ভৌগলিক অবস্থানের অর্থ হল, চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী যখন একই লাইনে একেবারে সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছয়, তখন সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হয়,” বলছে নাসা।

পৃথিবী পৃষ্ঠে যে লাইন বরাবর চাঁদের ছায়া পড়ে তাকে বলা হয় “পূর্ণ গ্রাসের পথ”। আর এই ছোট পথের মধ্যেই পুরো অন্ধকার নেমে আসার চোখ ধাঁধানো প্রক্রিয়াটি দেখা যায়। যে অংশে আলোর উৎস পুরো ঢেকে যায়, ছায়ার সেই ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশকে লাতিন ভাষায় বলে ‘আমব্রা’। এই পথের দুপাশে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত গ্রহণ দেখা যায় আংশিকভাবে। পুরো অন্ধকারে ঢেকে যাবার এই পথ থেকে পৃথিবীতে আপনার অবস্থান যত দূরে হবে, তত আপনি দেখবেন সূর্যের অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ চাঁদে ঢাকা পড়েছে।

আর গ্রহণ কতক্ষণ থাকবে “সেটা নির্ভর করে, সূর্য থেকে পৃথিবীর অবস্থান, পৃথিবী থেকে চাঁদের অবস্থান আর পৃথিবীর কোন্ অংশ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে তার ওপর,” জানাচ্ছেন মি. বিমিন। তত্ত্বগতভাবে, সূর্যের গ্রহণ সর্বোচ্চ ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে,” বলেছেন চিলের এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আমরা অনেক সময় ভাবি সূর্যগ্রহণ বেশ বিরল একটা প্রক্রিয়া। তা কিন্তু নয়। প্রতি প্রায় ১৮ মাস অন্তর সূর্যগ্রহণ হয়। যেটা আসলে খুবই বিরল সেটা হল একই স্থান থেকে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখতে পাওয়া। ঠিক একই জায়গা থেকে সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায় গড় হিসাবে প্রতি ৩৭৫ বছরে একবার।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top
error: Content is protected !!