যশোরের অভয়নগরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট

Ab-Hamla-1.jpg

অভয়নগর প্রতিনিধি

চতুর্থ ধাপে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে।হামলাকারীরা বসতবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের লেবুগাতী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।রবিবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় বাশুয়াড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এবি এম জাকির হোসেন (বাচ্চু) ও চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো.জহুরুল ইসলামের নের্তৃত্বে শতাধিক মানুষ লেবুগাতী বাজারে নৌকার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে।পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদের বাড়ির দিকে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সরেজমিনে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে শুভরাড়া ইউনিয়নের লেবুগাতী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে,আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ ইদ্রিস আলীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে।এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদের বসতঘর কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।ঘরের মধ্যে দুটি খাট ও খাদ্যসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদ বলেন,রবিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার আমার বাড়িতে হামলা করে।তারা আমাকে ও আমার পরিবারের সকলকে খুন করার উদ্দেশ্যে ভাংচুর চালাতে থাকে।তখন প্রাণ বাঁচাতে সব কিছু ফেলে আমরা পালিয়ে যায়।পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদের বড় ছেলে শুভরাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাবলু শেখ বলেন,আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।আমাদের বসতঘরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।বস্তায় থাকা ধান,চাল ও রান্না করা খাবার পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে।হামলার নের্তৃত্ব দিয়েছেন,একজন বড় পুলিশ কর্মকর্তার ভাই আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী একাধীক মামলার আসামি এবি এম জাকির হোসেন (বাচ্চু) ও ইউনিয়ন জামায়াত নেতা চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম।হামলাকারীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রো ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে এ কাজ করেছে।আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবি এম জাকির হোসেনের (বাচ্চু)নম্বরে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের সময় আমি ২নং ওয়ার্ডে ছিলাম।আমার কর্মী-সমর্থকরা মাঠে ছিল না।আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে এবি এম জাকির হোসেন জড়িত থাকতে পারে।

স্থানীয় বাশুয়াড়ী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই রফিকুল ইসলাম জানান,নির্বাচনী অফিস ও মুক্তিযোদ্ধার বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা জানতে পেরে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক সরদার অলিয়ার রহমার বলেন, নৌকার নির্বাচনী অফিস ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আওয়ামী লীগ কঠোর হতে বাধ্য হবে।

প্রসঙ্গত,রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে একযোগে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অভয়নগর উপজেলার ৮৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।রাতে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় কর্তৃক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ী চেয়ারম্যানরা হলেন-প্রেমবাগ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের মো. মফিজ উদ্দিন, সুন্দলী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের বিকাশ রায়, চলিশিয়া ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সানা আব্দুল মান্নান, পায়রা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের মো. হাফিজুর রহমান বিশ্বাস,শ্রীধরপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের মো. নাসির উদ্দিন, বাঘুটিয়া ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ তৈয়েবুর রহমান, শুভরাড়া ইউনিয়নে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম ও সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আবুল কাশেম।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top
error: Content is protected !!