খুলনায় পা‌রিবা‌রিক দুঃ‌শ্চিন্তা মাদ‌কের থাবায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

IMG_20211230_093303.jpg

নিজস্ব সংবাদদাতা:খুলনা মহানগরীতে মহুয়া খাতুন (২২) নামে এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজসেন এন্ড টেকনোলজির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। তিনি বাগেরহাট সদর থানা এলাকার শাহাদাত হোসেনের মেয়ে। খালিশপুরে নানী চায়না বেগমের বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতেন।
খালিশপুর থানার এসআই মো. শওকত আলী বলেন, ‘আজ (বুধবার) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তার শরীরে কোন আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুরাতহাল রির্পোট তৈরি করে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলাও দায়ের হয়েছে।’ এদিকে মৃত্যুর সময়ে তিনি একটি নোট লিখে গিয়েছেন। তাতে পরিবারের এক সদস্যের প্রতি ঘৃণার কথা লিখেছেন। এছাড়া তার মৃত মুখ না দেখার জন্যেও সেই সদস্যকে নিষেধ করেছেন সুইসাইড নোটে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয় কোন স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর তার হাত ও পায়ের নখ কিছুটা নীল বর্ণ ধারণ করেছিল। এটা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হলেও ময়না তদন্তের রিপোর্ট ব্যতিত পুলিশ কিছু বলতে রাজি হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোট বেলায় মহুয়ার মা মারা যায়। কিছুদিন পর বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এরপর থেকেই তিনি নানীর সাথে খুলনায় বসবাস করে আসছেন। এখানেই বড় হয়েছেন। আত্মহত্যার সময়ে তার নানী চায়না বেগম বাড়িতে ছিলেন না।
তার এক নিকট আত্মীয় জানিয়েছেন, সম্প্রতি কালে কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল মহুয়া। নানীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঠিক মত বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন পরিশোধ করতেন না। বন্ধুদের সাথে নিয়ে সেই টাকা আড্ডা দিয়ে খরচ করে ফেলতেন। এক পর্যায়ে মহুয়া মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ওই নিকট আত্মীয় বলেন, ‘তাদের পরিবারের অনুরোধে আমি নিজেই তাকে দুই বার বুঝিয়েছি।
তবে মহুয়া সংশোধন হননি।’ তার সহপাঠিরা বলেন, ‘মহুয়া তৃত্বীয় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের মিড টার্ম পরীক্ষা দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটা অংকের বেতন বকেয়া থাকার কারনে হয়তো সে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের এক শিক্ষক বলছেন, ‘বেতন বকেয়া থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়। কি কারনে মহুয়া পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তা বলা সম্ভব নয়।’

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top
error: Content is protected !!