পুতিনের কথিত প্রেমিকা কে এই কাবায়েভা

putin-girlfriend-kp.jpg

বিদেশ ডেস্ক:ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর কারণে রাশিয়া নজীরবিহীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। শুধু রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে রাখতেই নয়, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন রুশ অলিগার্ক, সরকারি কর্মকর্তা, এমন কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরিবারের সদস্যসহ কাছের ব্যক্তিরা।

এরই মধ্যে গত মাসে পুতিনের দুই মেয়ে মারিয়া ভোরনৎসোভা ও কাতেরিনা তিখোনোভার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তারা দুজনই পুতিনের প্রাক্তন স্ত্রী লিউদমিলার সঙ্গের সন্তান।

এবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথিত প্রেমিকা আলিনা কাবায়েভা। গুজব রয়েছে, আলিনা কাবায়েভা পুতিনের বেশ কয়েক সন্তানের মা।
এক সুইডিশ পত্রিকার দাবি, ২০১৫ সালে লেক লুগানোর একটি ক্লিনিকে তিনি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। এ ছাড়া ২০১৯-এও তিনি সন্তানের জন্ম দেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ২০১৯-এ তিনি মস্কোতে যমজ সন্তানের মা হয়েছেন।
আলিনা কাবায়েভা একজন সাবেক অলিম্পিক জিমন্যাস্ট, মিডিয়া বস, রাজনীতিবিদ এবং গুজব যদি সত্যি হয়, তিনি পুতিনের একের অধিক সন্তানের মা।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ইইউর নিষেধাজ্ঞার আওতায় নতুন করে নামের তালিকায় আলিনা কাবায়েভা রয়েছেন।

এএফপির বরাতে ক্রেমলিনের হয়ে প্রচার চালানোর দায়ে ও ৬৯ বছর বয়সী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হতে পারেন।
যদিও ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে এখনও স্বাক্ষর করেনি।

গত মার্চেও এক অনলাইন পিটিশনে তাকে সুইজারল্যান্ডে নিজের বাসা থেকে বের করে দেয়ার দাবি উঠেছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের বাইরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাকে পারিবারিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি সব সময় তা এড়িয়ে গেছেন।

বরাবরই তিনি আলিনা কাবায়েভার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।

২০০৮ সালে মস্কোভস্কিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি তার তৎকালীন স্ত্রী লিউদমিলাকে তালাক দিয়ে কাবায়েভাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। সে সময় দুজনই বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

এরপরে রুশ কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটিই বন্ধ করে দেয়। যদিও এর ঠিক পাঁচ বছর পরে লিউদমিলার সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
সে সময় আলিনা কাবায়েভা একজন সফল ক্রীড়াবিদ থেকে রাজনীতিকে পরিণত হচ্ছিলেন। যার ঝুলিতে ছিল এথেন্স অলিম্পিকের স্বর্ণপদকের পাশাপাশি ১৮টি শীর্ষ চ্যাম্পিয়নশিপ পদক ও ২৫টি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ পদক।

বলা হয়ে থাকে, তার সময়ে তিনিই ছিলেন সেরা জিমন্যাস্ট, যা তাকে একজন ধনী নারীতে পরিণত করে। তাকে বলা হতো রাশিয়ার সবচেয়ে নমনীয় নারী।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার প্রথম কবে সাক্ষাৎ হয়েছিল তা স্পষ্ট জানা না গেলেও দেশের শীর্ষ একজন ক্রীড়াবিদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ অস্বাভাবিক কিছু না।

আলিনা কাবায়েভার জন্ম ১৯৮৩ সালে। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে তিনি জিমনাস্টিকস শুরু করেন। তার প্রশিক্ষক ইরিনা ভিনার বলেছিলেন, ‘আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, যখন আমি তাকে প্রথম দেখেছিলাম। মেয়েটির ছন্দোবদ্ধ জিমন্যাস্টিকসে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গুণের বিরল সমন্বয় ছিল- নমনীয়তা ও তৎপরতা।’
১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্ট হিসেবে অভিষেক হয়েছিল এবং ১৯৯৮ সালে তিনি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হন। এভাবেই তার উত্থান।

তবে জিমন্যাস্ট থেকে অবসরের পর তিনি রাজনীতি ও মিডিয়ায় মন দেন। ২০১৪ সালে তিনি রাশিয়ার ন্যাশনাল মিডিয়া গ্রুপের প্রধান হন। এই মিডিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে ইউক্রেন ইস্যুতে অপপ্রচার ও গুজব চালানোর অভিযোগ করে আসছে পশ্চিমারা।

একজন রাজনীতিবিদ, নিম্নকক্ষের সাবেক সদস্য ও মিডিয়ায় তার অবস্থান তাকে একজন ধনী নারীতে পরিণত করেছে। ফাঁস হওয়া এক নথিতে দেখা গেছে, তিনি বছরে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার আয় করেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top