খুলনার দিঘলিয়ায় সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব

279899001_714869656373652_2733112572059135487_n-1.jpg

দিঘলিয়া প্রতিনিধি : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকায় টেন্ডারের আড়ালে রাস্তার দু’পাশের সরকারি গাছ চুরির হিরিক পড়েছে। সম্প্রতি মৃত গাছ ট্রেন্ডারের নামে কয়েক’শ তাজা ও মূল্যবান গাছ কর্তন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। যা নিয়ে গোটা দিঘলিয়া উপজেলায় হৈচৈ পড়ে গেছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি)কে প্রধান করে ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। সড়কের গাছ চুরির প্রতিবাদে আগামী রোববার উপজেলা সদরে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী।

সরকারের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা গতকাল দিনভর অনুসন্ধান করে গাছ চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও গতকাল পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। ইউএনও বলছেন কেউ অতিরিক্ত গাছ কর্তন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, গত ৩১মার্চ দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতী হতে সোনাকুর সড়কের পার্শ্বে অবস্থিত ৩৩৭টি মরা ও শুকনা শিশু গাছ প্রকাশ্যে নিলাম হয়। সে মোতাবেক এস এম হাবিবুর রহমান তারেক নামের জনৈক ব্যাক্তি ২লক্ষ ৬৬হাজার টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় তাকে ৫এপ্রিল থেকে ৫ মে/২০২২ তারিখের মধ্যে উক্ত মরা,শুকনা শিশু গাছ কাটার কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে উক্ত ঠিকাদার নির্ধারিত মরা,শুকনা শিশু গাছের পাশাপাশি আরো শতাধিক মূল্যবান গাছ কর্তন করে নিয়ে যান।যার মূল্য কয়েক লক্ষাধিক টাকা।

এলাকাবাসি সংশ্লিষ্ট ঠিকারদারকে অতিরিক্ত গাছ কর্তনে বাঁধা দিলে ঠিকাদার এস এম হাবিবুর রহমান তারেক তাদেরকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি প্রদান করেন। অবশেষে এলাকাবাসি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ করেন।

যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা বন কর্মকর্তাসহ সরকারের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা দিনভর অনুসন্ধান করে গাছ চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।

উপজেলা বনকর্মকর্তা সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত ২২টি গাছ কাটার প্রমান পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহবুবুল আলম বলেন,প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গাছ কর্তনের প্রমান মিলেছে তাই অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে প্রধান ও উপজেলা প্রকৌশলী এবং বন কর্মকর্তাকে সদস্য করে ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৫কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top