যেকোনো সফলতা নিয়ে কিছু মানুষ বিরোধিতা করবেই: সজীব ওয়াজেদ জয়

Joy-wajed.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রকস্টার ও গানের সম্রাটরা যেমনটি স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন সত্যি হলো। ১৯৭১ সালের যুদ্ধবিধ্বস্ত সেই দেশটি এখন টেকসই অগ্রগতি এবং উন্নয়নের একটি প্রতিকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’ বাংলাদেশ স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন কর্মযজ্ঞ পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস রচনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পদ্মা সেতু কিংবা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটই হোক, বাংলাদেশের এমন যেকোনো সফলতা নিয়েই কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধিতা করবে। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

নিজের ফেসবুকে পেজে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাতে দেয়া পোস্টে এ মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, “যুদ্ধাপরাধীদের প্রেতাত্মারা যাতে অন্ধকার অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে না পারে, সে জন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।”

গত ৬ মে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্টের’ একটি ভিডিও ওই পোস্টে দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ। তার বর্ণনায় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সহায়তায় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি এসব কথা লেখেন।
“১৯৭১ সাল, হাজার হাজার মাইল সাগর দূরত্বের একটি দেশ তার লালসবুজ পতাকা রক্ষায় রক্ত ঝরাচ্ছিল। আর বন্ধুর মুখে সেই দেশটির গল্প গভীরভাবে নাড়া দিল বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় একজন শিল্পীকে।

“পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা, অসংখ্য নারীদের ধর্ষণ আর অনাহারে শিশুদের মৃত্যু তাকে মর্মাহত করল। ঠিক তখনই কিছু কাব্যিক শব্দ একটি অবিস্মরণীয় গানের লিরিক আকারে ফুটে উঠল।”

খ্যাতনামা ব্রিটিশ ব্যান্ডদল বিটলসের ভোকাল ও লিড গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসনের গাওয়া ইংরেজি ওই গানটির বাংলা ভাষান্তর নিজের পোস্টে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা।

‘চোখ ভরা বিষাদ নিয়ে আমার বন্ধু আমার কাছে এসেছিল, তার দেশ শেষ হয়ে যাবার আগে পাশে দাঁড়ানো দরকার বলে আমাকে জানিয়েছিল।’

মনে যা এসেছিল, শুধু তাই দিয়ে গানটি রচনা করলেন না বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন। বরং ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস একটি গণহত্যার শিকার হওয়া বাংলাদেশের জনগণকে সাহায্য করার চিন্তায় মগ্ন তখন।
ছুটে গেলেন বব ডিলান এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মতো কিংবদন্তিদের কাছে। তারাও বাংলাদেশকে সমর্থন জোগাতে সম্মত হন। আর বাকিটা তো ইতিহাস।

‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশের মাধ্যমে তারা যুদ্ধের শিকার দেশকে সাহায্য করার নজির স্থাপন করেছে। যখনই আমি এটি ইউটিউবে দেখি, এটি আমাকে একটি সোনালি মুহূর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যায়’-

“জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশ গানটি গাইছেন, কানে ভাসছে বব ডিলানের ‘হাউ মেনি রোডস অ্যা ম্যান মাস্ট ওয়াক ডাউন (কতটা পথ পেরোলে বলো পথিক হওয়া যায়)’, ঝড়ের মতো তার সেতারে সুর তুলছেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। একই মঞ্চে সকল তারাদের মেলা!”

বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে সেই মুহূর্তকে আরেকটি কনসার্টের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা তুলে ধরেন জয়।

‘বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রকস্টার ও গানের সম্রাটরা যেমনটি স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন সত্যি হল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধবিধ্বস্ত সেই দেশটি এখন টেকসই অগ্রগতি এবং উন্নয়নের একটি প্রতিকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’

বাংলাদেশ স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন কর্মযজ্ঞ পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস রচনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুবর্ণজয়ন্তীতে সবাইকে সোনার বাংলার প্রতিশ্রুতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, হ্যারিসনের বাংলাদেশ গানটি আরও একবার গাই এবং বিশ্ব আবার শুনুক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই হলো এবারের সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের প্রতিশ্রুতি।’

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top