সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকসহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা

amjad.jpg

প্রতিদিন ডেস্ক:সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক লিমিটেডের (এসবিএসি) সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন ও একই ব্যাংকের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন; দুজন মিলে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করিয়েছেন। পরে সেটা ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করেছেন। বিদেশেও পাচার করেছেন অনেক টাকা। সাউথ বাংলা ব্যাংকের এই দুই কর্মকর্তাসহ আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা ১-এ এই মামলা দায়ের করেন। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, একেএম আসিফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি রাফি-মাহি করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এই ঋণ নিয়েছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসিফ হলেন এস এম আমজাদ হোসেনের লকপুর নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। আমজাদের নির্দেশেই আসিফ রাফি-রাহি করপোরেশন নামে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেয়। লাইসেন্সে আসিফ তার শ্যালকের একটি ভিডিও দোকানের ঠিকানা ব্যবহার করে। পরে তিনি সাউথ বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি চলতি হিসাব খুলে ১২ কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন। চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের নির্দেশে কোনও মর্টগেজ ছাড়াই ওই ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাফি-মাহি করপোরেশনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক অবস্থান সম্পর্কে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে বলে ভুয়া রিপোর্টও দাখিল করেন। ওই রিপোর্টে তৎকালীন সিনিয়র অফিসার তানজির উদ্দিন চৌধুরী, ইশতিয়াক আহমেদ স্বাক্ষর করেন এবং এভিপি ও ম্যানেজার শেখ শরফুদ্দিন প্রতিস্বাক্ষর করেন।

গত ১২ ডিসেম্বর ব্যাংকের বর্তমান নিরীক্ষা দল সরেজমিন ওই গ্রাহকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা পরিদর্শন করে কোনও প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাও সরেজমিন গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচিত এই ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় রাফি-মাহি করপোরেশনের মালিকানায় নাম থাকা এ কে এম. আসিফ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, তিনি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের নির্দেশে ট্রেড লাইসেন্স খুলে ঋণের আবেদন করেন। তিনি মূলত একজন চাকরিজীবী। রাফি-রাহি ছিল কাগুজে প্রতিষ্ঠান।

আসিফ আরও জানিয়েছেন, তিনি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পর আমজাদ হোসেন সাউথ বাংলা ব্যাংকের বিজয়নগর শাখার ম্যানেজার শেখ শরফুদ্দিনের সহায়তায় একটি ব্যবসায়িক হিসাব খোলেন। ওই হিসাবের বিপরীতে পাওয়া চেক বইয়ে আগে থেকেই আমজাদ হোসেন স্বাক্ষর নিয়ে ঋণের সব টাকা তুলে নেন।

দুদক সূত্র জানায়, নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দুদক কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ঋণের ওই অর্থের একটা অংশ ব্যাংকের পরিচালক ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অ্যাডমিরাল ট্রেডিং করপোরেশন, ফিশ ফর ইউ লিমিটেড, একুশে হোমস লিমিটেড, অ্যাগ্রো ভিটা লিমিটেড এবং ই-সিকিউরিটিজ লিমিটেডেও স্থানান্তর করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, সাউথ বাংলা ব্যাংকের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন আল-আমিন করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও প্রায় ছয় কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

ব্যাংকের বিজয়নগর শাখার ব্যবস্থাপক শেখ মো. সরফুদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই আল-আমিন করপোরেশনের নামে এসওডি (ওয়ার্ক অর্ডার) হিসাবে প্রায় ছয় কোটি টাকা উত্তোলনে আমজাদ হোসেনকে সহযোগিতা করেন।

আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন লকপুর গ্রুপের কর্মচারী কিসলু, কামরুল এসব টাকা উত্তোলন করেন।

দুদক ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ আগস্ট সাউথ-বাংলা ব্যাংকের ১২৪তম বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের সভায় নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের বিষয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও পরিচালক ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন দুটি পৃথক ঋণ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করে ছয় মাসের মধ্যে তা সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। সভার রেজুলেশনেও বিষয়টি লিখিত রয়েছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top
error: Content is protected !!