প্রসংশায় ভাসছেন খুলনার অদম্য ট্রাফিক সার্জেন্ট রেকসনা খাতুন

FB_IMG_1642446608471.jpg

সোহাগ দেওয়ান,খুলনা:
একজন নারী পুলিশ সদস্য হয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসীকে আটকে ভুমিকা রাখায় প্রসংশায় ভাসছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট রেকসনা খাতুন। ইতোমধ্যে তার ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় খুলনার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ পোষ্ট করে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। এবিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে (কেএমপি)’র পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়। তবে কেএমপি’র ওই বিজ্ঞপ্তিতে নেই সার্জেন্ট রেকসনা খাতুনের নাম!
গত ১৬ জানুয়ারি খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার অন্তর্গত বয়রা পাবলিক কলেজ মোড়ে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওনকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা গুলি করে পালানোর সময় একজনকে আটক করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রেকসনা খাতুনসহ অপর দুইজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলে একজনকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করতে সক্ষম হন। আটকের পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনী দিয়ে গুরুতর আহত করেছিলো। এসময় দুটি মোটরসাইকে যোগে আরও ৫জন অস্ত্রধারী পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় থানা পুলিশ এসে আটক সাইদুল ওরফে সাইদুর(৩৭) কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ১১ রাউন্ড গুলি এবং ১টি ককটেল জব্দ করে পুলিশ।
ট্রাফিক সার্জেন্ট রেকসনা খাতুন জানান, ঘটনার সময় পিস্তলের গুলির শব্দ ও হাতবোমার শব্দে পথচারী ও স্থানীয় মানুষ আতঙ্কে এদিক ওদিক ছুটে যায়। ২টি মোটর সাইকেলে ৬জন মানুষ ছিলো। তারা গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমিসহ সাথে থাকা একজন এটিএসআই ও একজন কনস্টেবল রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের যায়গা থেকেই মুলত সেই সময় মনের মধ্যে সাহস চলে এসেছিলো। নিজেকে একবারের জন্যও নারী পুলিশ সদস্য মনে হয়নি। অপরাধীকে যেকোন ভাবেই আটক করতে হবে এটাই তখন এই ভাবনাটাই মাথার মধ্যে ঢুকে যায়। মহান সৃষ্টিকর্তা সফলভাবেই ওই সন্ত্রাসীকে আটকের সামর্থ করে দিয়েছেন।
এরপর বেতারের মাধ্যমে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবগত করেন তিনি।

কেএমপি’র ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬জানুয়ারি সন্ধ্যায় বয়রা মোড়ের পাবলিক কলেজ মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট বেতারের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য সংগীয় ফোর্সদের সহায়তায় রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে ২টি মোটরসাইকেলে ৬ জন ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে সিগনাল দিলে তারা সিগনাল অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় মোটরসাইকেল দুইটির সংঘর্ষে ১টি মোটরসাইকেল পিছনে থাকা একজন ব্যক্তি পাঁকা রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। বাকী ৫ জন ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আটক আসামী সাইদুল ওরফে সাইদুর(৩৭) খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার গোবরচাকা নাহিদের মোড়, ইউনুস সরদারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া। তার বাবার নাম মৃত: সুলতান। বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এঘটনায় কেএমপি’র খালিশপুর থানার এসআই পীযূষ দাস বাদী হয়ে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(অ), তৎসহ ১৯০৮ সনের বিষ্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৩/৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলো গ্রেনেড বাবু (৩২), সাইদুল রওফে সাইদুর(৩৭), পলাশ ওরফে চিংড়ি পলাশ(২৮), ইমন(৩০) ও রাসেল (২৭)।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top