খুলনায় মস্তকবিহীন তরুনীর মৃতদেহের পরিচয় মিলেছে

received_677567100291652.jpeg

নিজস্ব সংবাদদাতা:
খুলনার ফুলতলার উত্তরডিহি গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মস্তকহীন বিবস্ত্র তরুনীর লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মুসলিমা খাতুন (২১)। তিনি দামোদর গ্রামের মোঃ শহিদুল হকের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ এমদাদুল হক গাজীর কন্যা। সে ফুলতলার আইয়ান জুট মিলের শ্রমিক ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতিতে তার পরিচয় সণাক্ত হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি (বুধবার) সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর বিকেলে পরিচয় পাওয়া গেছে। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের সণাক্ত করতে পুলিশের তদন্তকার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে। এবিষয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত মুসলিমার মেঝ বোন আকলিমা খাতুন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে মুসলিমা মোবাইলের একটি কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে সারা রাতে আর বাসায় ফেরিনি। মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বুধবার উত্তরডিহির ধান ক্ষেতে অজ্ঞাত লাশের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বোনের লাশ সনাক্ত করেছি। এ সময় লাশের পরনে কোন বস্ত্র ছিল না এবং যৌনাঙ্গ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষন ও পাশবিক নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত দুই বছর পূর্বে যশোরের প্রেমবাগ এলাকায় জনৈক সাগরের সাথে বিবাহ হলেও পরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর সে আইয়ান জুট মিলের শ্রমিকের কাজ নেয়। সম্প্রতি নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও আইয়ান জুট মিলের শ্রমিক রিয়াজের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তবে ঘটনার রাতে কার ফোন পেয়ে সে বাসা থেকে বের হয়েছে সেটি জানা যায়নি।

তিন বোনের মধ্যে নিহত মুসলিমা ছিল সবার ছোট। ফুলতলা দামোদর ঋষিপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ বছর ধরে ভাড়া থাকলেও তারা সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার পাশের্^খালি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল ভোরে গ্রামের কৃষক রেজা সরদার পানি দেওয়ার জন্য উত্তর মাঠে গিয়ে রবিউল মল্লিকের ধান ক্ষেতে বস্ত্র ও মস্তকহীন লাশ দেখতে পান। পরবর্তীতে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

থানা অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস তালুকদার বলেন, প্রেমঘটিত কোন ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। নিহত মুসলিমার খন্ডিত মস্তক ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ঘটনাস্থলে তাকে হত্যা না অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে লাশ ওই স্থানে ফেলে রাখে সেটি নিশ্চিত নয়। এছাড়া হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের সণাক্ত করতে তদন্তকার্যক্রম চলছে। হত্যাকান্ডে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top