খুলনায় যুবতীর খন্ডিত মস্তক উদ্ধার করলো র‌্যাব: দুই খুনি গ্রেফতার

rab-0000000.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার ফুলতলায় গণধর্ষনের পর গলা কেটে হত্যা করা যুবতী মুসলিমা (২১)’র খন্ডিত মস্তক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। হত্যাকান্ডের তিনদিন পর প্রকৃত দুই খুনিকে গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্যমতে সেই মস্তক উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মুসলিমার পরিহিত জামা কাপড়, জুতা এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ওই দু’যুবক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আজ ২৯ জানুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যাবের অভিযান শুরু হয়। দুপুর ১টা নাগাদ এ অভিযান শেষ হয়। অভিযান শেষে র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ ঘটনাস্থলেই ব্রিফিং করেন।

মুসলিমা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ওই দু’জন হলেন ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা পুর্বপাড়ার মোশারফ খন্দকারের ছেলে রিয়াজ খন্দকার (২৬) ও একই এলাকার শিলন সরদারের ছেলে সোহেল (২০)। তাদেরকে ফুলতলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্ত রের পক্রিয়া করছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ জানান, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ফুলতলার উত্তরডিহি এলাকার ধান খেত থেকে মুসলিমার মস্তকবিহীন বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে র‌্যাব-৬ ঘটনাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দু’জনকে ২৮ জানুয়ারি গভীর রাতে আটক করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক ভিকটিমের মস্তকসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকান্ড এবং হত্যার পুর্বে গণধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে।

অভিযুক্তদের বরাত দিয়ে র‌্যাব অধিনায়ক আরও জানান, ২৫ জানুয়ারি ঘটনার দিন রাতে গণধর্ষনের পর হত্যার পরিকল্পনাকালে মুসলিমা তাদের কাছে মিনতি করেও রক্ষা পায়নি। মুসলিমা খুনিদেও বার বার বলেছিলো “আমার বাবা খুব অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি” ধর্ষণের ঘটনা কাউকে ব বো না আমাকে ছেড়ে দেও। কিন্তু তবুও মুসলিমাকে পৈশাচিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা কওে, তার দেহ থেকে মাথা আলাদা করে ফেলেছিলো খুনিরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নিহত মুসলিমার বোন আকলিমা খাতুনসহ স্বজনরা। তাদেও আহাজারিতে আকাশ বাতাশ ভাড়ি হয়ে যায়। শত শত মানুষ ঘটনা দেখার জন্য ভিড় জমান। আকলিমা বলেন, এদেরকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড চাই। একই দাবি জানান ওই এলাকার মানুষ।
প্রসঙ্গত: গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ফুলতলার উত্তরডিহি এলাকার ধান খেত থেকে মুসলিমার মস্তকবিহীন বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ময়না তদন্ত শেষে ২৭ জানুয়ারি মস্তকবিহীন দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন আকলিমা খাতুন বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা করেন (নং-১৩)। ওই এজাহারে বলা হয়, ২৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোবাইলে কল পেয়ে মুসলিমা বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরদিন সকালে মস্তকবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top
error: Content is protected !!